শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক॥
ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাবশালী অবস্থান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মাঠকেন্দ্রিক সক্রিয়তার কারণে রাজশাহীর রাজনীতিতে তিনি এখন এক সুপরিচিত ও আলোচিত মুখ মাহফুজুর রহমান রিটন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে একাধিক অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূল নেতাকর্মী ও নগরবাসীর একটি বড় অংশের সমর্থন তরুণ নেতা মাহফুজুর রহমান রিটনের দিকে ঝুঁকছে। রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা।
ছাত্রজীবনেই তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুতই নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। মহানগর পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তৃণমূল ভিত্তিক কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত হন, যা তাঁর নেতৃত্বের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবরাজনীতিতে উত্তরণের পর তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং কর্মীদের মধ্যে ঐক্য জোরদারে তিনি ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, দমন-পীড়ন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে সক্রিয় থেকে দলীয় কার্যক্রম সচল রাখার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে রাজশাহীর রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মুখে পরিণত করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে তাঁকে দেখার প্রত্যাশা। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সমর্থকদের দাবি, নগর রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্বে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
তাদের মতে, নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি বাস্তব ভিত্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবেন-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন সমর্থকরা।
যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ছাত্রদল থেকে যুবদল হয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক-এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন এখন রাজশাহীর রাজনীতিতে একটি প্রত্যাশিত ও আলোচিত নাম। আগামীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা সময়ই বলে দেবে; তবে নগর রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি যে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।
যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে তাঁর নাম ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জোর আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, আমি সবসময় রাজনীতি করেছি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ব্যক্তিগত পদ-পদবী কখনো আমার লক্ষ্য ছিল না। তবে দল এবং জনগণ যদি মনে করে আমি কোনো দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত, তাহলে সেই দায়িত্ব সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী আমার প্রাণের শহর। এই নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলে সবার আগে নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার দিকেই গুরুত্ব দেবো।
রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ টেনে রিটন বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি মাঠে থেকেছি। প্রতিকূল সময়েও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা-সবকিছুর মধ্যেও সংগঠনকে সচল রাখার চেষ্টা করেছি। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, দায়িত্বের বিষয়। নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন। রাজশাহীর মানুষ উন্নয়ন চায়, সেবা চায়, স্বচ্ছতা চায়। আমি বিশ্বাস করি-সমন্বিত পরিকল্পনা, সঠিক তদারকি এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নগর পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁকে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞ যে অনেকেই আমার ওপর আস্থা রাখছেন। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত দলের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।